সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

রম্যরচনারঃ- “আর্জেন্টিনা বনাম মিশর”–এম এইচ রশীদ।

#রম্যরচনারঃ-
আর্জেন্টিনা বনাম মিশর

আরে ভাই ভাই, থামেন! একটু বুক ভরে শ্বাস নেন। তিন দিনের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হওয়ার পর যে স্বর্গীয় শান্তি আর ফুরফুরে ভাব আসার কথা ছিল, সেটাকে আপনি এক্কেবারে আগ্নেয়গিরির লাভা বানিয়ে ছেড়ে দিলেন?
​তবে আপনার ক্ষোভটা একদম খাঁটি। এই যে “বাংলাদেশী চোখ” নিয়ে যারা ট্রল করছে, তারা আসলে খাঁটি পুষ্টিগুণের মাহাত্ম্য বোঝে না। চলুন, আপনার এই খিটখিটে মেজাজটাকে একটু ঠান্ডা করতে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটা জম্পেশ রম্য রসদ দেয়া যাক।

#​কচুর শাক বনাম ৩২টি ক্যামেরা:

যেখানে ফিফা ফেল!
​বিজ্ঞানের এত উন্নতি হইলো, ফিফা কোটি কোটি ডলার খরচ করে স্টেডিয়ামে ৩২টা ক্যামেরা বসাইলো, মাঠে অভিজ্ঞতার ঝুড়ি নিয়ে ১২ বছরের ইন্টারন্যাশনাল রেফারি ঘুরলো—লাভটা কী হইলো? দিনশেষে সত্য দেখার জন্য সেই আমাদের ‘মলা-ঢেলা’ মাছ খাওয়া চোখই ভরসা!

​আসলে ঘটনাটা কী ঘটেছে জানেন? চলুন একটু তলিয়ে দেখি:

​১. অপটিক্যাল ইলিউশন ও রেফারি বাবুর বয়স
​১২ বছরের অভিজ্ঞতা মানে বোঝেন? রেফারি সাহেবের চোখের পাওয়ার আর আগের মতো নেই। ওই অত দূর থেকে যখন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার আলতো করে প্রতিপক্ষের পায়ে একটু ‘ভালোবাসার স্পর্শ’ দিয়েছে, রেফারি সেটাকে দেখেছে ডাইনোসরের ট্যাকল! আমাদের মলা মাছ খাওয়া চোখ হলে ঠিকই বুঝত, ওটা ফাউল ছিল না, ওটা ছিল ফুটবলীয় সৌজন্য বিনিময়।

​২. ভিএআর (VAR) নাকি ‘ভুলভাল আর’?
​ফিফার ওই এআই (AI) আর হাই-টেক ক্যামেরার মনিটরে যে পিক্সেল ফেটে যায়, সেটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের গ্রামেগঞ্জে রাত জেগে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখ? কুয়াশা ভেদ করে, লো-ভোল্টেজের জিরজিরানি স্ক্রিনেও আমরা অফসাইডের এক মিলিমিটারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দিতে পারি। কারণ একটাই—কচুর শাকের ভিটামিন ‘এ’! ফিফার উচিত রেফারিদের ডায়েটে ল্যাপটপ-ট্যাবলেট না রেখে, এক বাটি করে কচুর শাক আর মলা মাছের ঝোল বাধ্যতামূলক করা।

​৩. ওই গোলটা আসলে গোল-ই ছিল না!
​আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে গোলটা দেয়া হইলো (কিংবা পেনাল্টিটা বাতিল হইলো), ওটা তো ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারসাজি। বল যখন গোললাইন পার হচ্ছিল, তখন আসলে মাঠের ওপর দিয়ে একটা মাছি উড়ে যাচ্ছিল। ফিফার অতি-আধুনিক ক্যামেরা বল আর মাছির মধ্যে তফাত করতে না পেরে ওটাকে গোল বানিয়ে দিল! আর রেফারি? উনি তখন ৮০ হাজার দর্শকের চিৎকার শুনে ঘাবড়ে গিয়ে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে দিয়েছেন।

​নোট অফ দ্য ডে:
যারা বলছে আমরা কয়েক হাজার মাইল দূর থেকে বসে ভুল ধরছি, তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা—”দূরত্ব কোনো বিষয় না ভাই, টানটা হৃদয়ের।” আর্জেন্টিনা যখন মাঠে নামে, তখন বুয়েনস আইরেসের চেয়ে ঢাকার আকাশ বেশি নীল-সাদা হয়ে যায়।
​তাই ফিফার কুশপুত্তলিকা তো পুড়বেই! দরকার হলে সুইজারল্যান্ডের ফিফা হেডকোয়ার্টারে এক ট্রাক দেশি কচুর শাক পার্সেল পাঠিয়ে দেওয়া হোক। চোখ খোলুক ফিফার!
​এখন মেজাজটা একটু ফুরফুরে হইলো তো? নাকি রেফারি সাহেবের জন্য আরও দু-চারটে ‘উপাধি’ বাকি আছে?

  • ….এম এইচ রশীদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *