সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

সুরের ডানায় দুই দশক: জন্মদিনে কনা-কে জয় প্রভাত-এর সশ্রদ্ধ অভিবাদন

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:

আজ ৫ জুলাই। বাংলা আধুনিক গান এবং চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকের অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা-র জন্মদিন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের কণ্ঠের জাদুতে বাংলাদেশের সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রিকে মাতিয়ে রেখেছেন এই গুণী শিল্পী। বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল থেকে শুরু করে সিনেমার রোমান্টিক গান কিংবা স্টেজ পারফরম্যান্স—সবখানেই তিনি অনন্য ও সমাদৃত। তার জন্মদিনের এই বিশেষ ক্ষণে ‘দৈনিক জয় প্রভাত’-এর পক্ষ থেকে তার জীবন ও সঙ্গীতযাত্রার ওপর এক বিশেষ আলোকপাত।

​/7890586896953632062_0

ক্যাপশন: স্টেজ পারফরম্যান্সে চিরসবুজ ও প্রাণবন্ত কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। ফাইল ছবি

 

শৈশব ও সঙ্গীতের হাতেখড়ি

​দিলশাদ নাহার কনা-র জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ছোটবেলা থেকেই সুরের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীসহ দেশের বেশ কয়েকজন গুণী শিক্ষকের কাছে ধ্রুপদী সঙ্গীতের তালিম নেন তিনি। গানের প্রতি এই একাগ্রতাই তাকে খুব কম বয়সে মিডিয়াঙ্গনে নিয়ে আসে। ২০০০ সালের দিকে বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল দিয়ে তার পেশাদার সঙ্গীত জীবনের সূত্রপাত ঘটে। কনার কণ্ঠের মিষ্টি ও প্রাণবন্ত সুর খুব দ্রুতই বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের নজর কাড়ে।

অ্যালবাম ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠা

​২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় কনার প্রথম একক অ্যালবাম ‘জ্যামিতিক ভালোবাসা’। অ্যালবামটি শ্রোতামহলে দারুণ সাড়া ফেলে। তবে তার সঙ্গীত জীবনের অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যালবাম ‘সিম্পলি কনা’। এই অ্যালবামের “ভাবনা আমার” এবং পরবর্তীতে একক গান “রেশমি চুড়ি” তাকে তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত করে। পপ, মেলোডি কিংবা ফোক ঘরানার গান—সবকিছুতেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন তিনি।

প্লেব্যাকের অঘোষিত রানি

​সিনেমার গানে বা প্লেব্যাকে কনা বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল নাম। শাকিব খান থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের নায়ক-نائিকাদের লিপে কনার গান মানেই সুপারহিট। বিশেষ করে ‘বসগিরি’ সিনেমার “দিল দিল দিল” গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং ইউটিউবে কোটি কোটি ভিউ পাওয়া একটি গান। এছাড়া “ওরে মন কাচ কাটা”, “সোনা বন্ধু”, “টোনাটুনি”সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। তার গায়কী শুধু সিনেমার গল্পকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং শ্রোতাদের সিনেমা হলের দিকে টানতেও বড় ভূমিকা রেখেছে।

দৈনিক জয় প্রভাত-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বাণী

জন্মদিনের শুভেচ্ছা, সুরের জাদুকরী কনা!

​মিষ্টি কণ্ঠ, চমৎকার গায়কী আর স্টাইলিশ পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে মুগ্ধ করে রেখেছেন কোটি শ্রোতার হৃদয়। তার জন্মদিনে ‘দৈনিক জয় প্রভাত’ পরিবারের পক্ষ থেকে রইল অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। সুরের ভুবনে তার এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক, আগামী দিনগুলো কাটুক আরও সাফল্যে। শুভ জন্মদিন!

 

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

​সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য কনা লাভ করেছেন অসংখ্য সম্মাননা। শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ দেশের বড় বড় সব সম্মাননা রয়েছে তার ঝুলিতে। শুধু দেশেই নয়, প্রবাসেও বাঙালি শ্রোতাদের কাছে স্টেজ পারফরম্যান্সের জন্য তার দারুণ চাহিদা রয়েছে।

সময়ের সাথে কনা

​দুই দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে চেনা সহজ কথা নয়। কনা সেটি করে দেখিয়েছেন তার কঠোর পরিশ্রম, সময়নিষ্ঠতা এবং শ্রোতাদের রুঝতে পারার ক্ষমতার মাধ্যমে। তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম।

​আজকের এই শুভ দিনে দৈনিক জয় প্রভাত-এর পুরো টিম এবং তার অগণিত ভক্তের পক্ষ থেকে কনার জন্য রইল দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের শুভকামনা। সুরের আলো ছড়াতে থাকুন চিরকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *