প্রিয়তমা! তোমার অক্ষিকোটরে আমি দেখতে পাই ভাবসাগরের অন্তহীন জলরাশি। সেই তরঙ্গমালার বুকে পালের তরী ভাসিয়ে আমি হারিয়ে যাই অজানা দিগন্তের পানে। তোমার অধরের কিনারায় একফালি হাসির স্ফুরণে মনে হয়, পূর্ণিমার শশী নেমেছে ধরনীর বুকে। ভালোবাসার স্নিগ্ধ পরশে আমি আবিষ্কার করি মহাসাগরের অতল গহীনে লুকিয়ে থাকা মণিমুক্তার খনি। তখন মন, পেঁজা তুলোর মতো হালকা হয়ে যায়। রঙহীন পৃথিবীও আমার কাছে স্বর্গীয় কুসুমকাননে রূপ নেয়। তোমার সত্তায় আমি খুঁজে পাই প্রেমের অনিঃশেষ স্নিগ্ধতা। হৃদয়ের প্রতিটি তারে বেজে ওঠে আনন্দের অনির্বচনীয় সুর। তবু কখনো, তুমি ধারণ করো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ। চোখের কর্নিয়া থেকে যেন আগ্নেয়গিরির দাউদাউ লাভা বিস্ফোরিত হয়। অবয়বে তখন জেগে ওঠে চামুণ্ডা কালীর প্রলয়ংকরী মহিমা। সেই দহনেও আমি বারবার পুড়ে যাই, তবু সরে যেতে পারি না। নিজেকে মনে হয় দিকভ্রান্ত এক নাবিক, যে বহুধাবিভক্ত অনুভূতির ঘূর্ণাবর্তে নিমেষেই হারিয়ে ফেলে নিজের ঠিকানা। আবার যখন প্রেমের চৌম্বকীয় আবেশে কাছে টেনে নাও, তোমার স্নেহস্পর্শে সব দহন নিঃশেষ হয়ে যায়। তখন তব সত্তার ভেতরেই আমি নতুন করে খুঁজে পাই নিজেকে। এক নবজন্মের অবয়বে, এক অনন্ত ভালোবাসার আভা।