সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
আগামী বাংলাদেশ হোক সর্বজনীন সমৃদ্ধির দেশ,
(পর্ব এক )বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে গোটা জাতি যেন এক অলৌকিক ক্ষমতার হাতছানিতে বিভাজন হয়ে আছি। এখানে কেউ শোষক আর কেউ শোষিত। তবে শোষকের চেয়ে শোষিত বহুগুণে বেশি একথা আজকে বলাই যায় । এছাড়া বিগত রাষ্ট্র পরিচালকরা সাধারণ জনগণকে উপেক্ষা করে চলেছে বিভিন্নভাবে । এই কথা কিন্তু আসলেই সত্যি।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে ধনীরা আরো ধনী হয়েছে, আর গরিবেরা রয়েই গেছে গরিব। এদিকে বতর্মান সমাজ ব্যবস্থা এমন হয়েছে যে, সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার টুকু পাচ্ছে না শত চেষ্টা করেও। এমনকি মামলা মকদ্দমায় গিয়েও অর্থের জন্য হেরে যাচ্ছে অসহায় পরিবার গুলো বারবার। শিক্ষাখাতে সীমাহীন ব্যয় মেটাতে পারছে না বলে গরিবদের সন্তানকে লেখাপড়া পর্যন্ত করাতে পারছে না আমাদের দেশে । স্বাস্থ্যখাতে রয়েছে চরম দুর্নীতি আর গরিবদের জন্য রয়েছে অবহেলা থেকে অসৌজন্য মূলক আচরণ, এভাবেই চলছে বিগত চুয়ান্ন বছর।
এখানে যেমন দুর্নীতি করেছে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক অনেক নেতারা, তেমনি দুর্নীতি করেছে সরকারি অনেক কর্মকর্তারা, তেমনি সিন্ডিকেট করেছে দেশের বড় বড় অসংখ্য ব্যবসায়ীরা । যার ফলে রাষ্ট্র নিয়ে, রাষ্ট্রের সাধারণ জনসাধারণ চিন্তা করার সময় আর কারো হয়ে উঠেনি। অথচ দেশের ষাট ভাগের বেশি জনগণ নিম্ন আয়ের বা মাঝারি আয়ের।
বিগত প্রতিটা সরকারের আমলে সাড়ে তিনশত এমপি, তার মধ্যে এক ডজন,দুই ডজন মন্ত্রীসহ রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। কিন্তু সবার বেলায় জন আশা গুলো যেন গরম ভাতে ছাই। প্রতিটা সরকারের আমলে যেমন ছিল দুর্নীতি, তেমনি ছিল স্বজনপ্রীতি। এককথায় লেজে গোবরে অবস্থা। যার ফলে সরকার গুলো সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বারবার । অন্যদিকে সরকার গুলো ভুল উন্নয়ন করতে গিয়েও সবাই সেই উন্নয়ন নিয়ে গর্ব করে থাকে। কিন্তু জনগণ তা মানতে রাজী নয়। এভাবেই চলছে দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর ।
তবে দেশের জনগণ আজকে অনেক সচেতন, তাই ভবিষ্যতে এবং আমাদের আগামী প্রজন্মের একটি টিকসই রাষ্ট্র কাঠামো চাই। আমরা একটি সর্বজনীন সমৃদ্ধির বাংলাদেশ দেখতে চাই।
১. দেশের দুর্নীতি বন্ধ হোক।
২. সিন্ডিকেট বন্ধ হোক।
৩. শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক হোক, প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত।
৪. স্বাস্থ্য সেবায় খরচ কমানো হোক, নকল ঔষধ বিপনন বন্ধ হোক।
৫. আইনশৃঙ্খলা উন্নত হোক। এবং কোর্ট আদালতের মত জায়গায় ঘুষ প্রথা বন্ধ হোক।
(পর্ব দুই )
একটি দেশের সরকারের নিজস্ব আয় রোজগার থাকা একান্ত প্রয়োজন। যেটা বিশেষ করে বাংলাদেশের নেই।
সম্মানিত প্রিয় পাঠক, আজকের লেখাটি শুরু করার পূর্বে। বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার এবং সরকারের সকল মন্ত্রী এমপি এবং বিরোধী দলীয় জোটের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দীর্ঘদিন দেশের জনগণ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন, একটি গণতন্ত্র মুখী নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশায়। কথা থাকে যে, একটি দেশের সরকারের মুল ভিত্তি থাকা, বিশেষ করে নিজস্ব আয় রোজগার থাকা একান্তই প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, এরকম অনেক বিষয় লক্ষ্য করেছি বিগত সরকারের আমল গুলোতে। লক্ষ্য করে দেখেছি। একটি জাতীয় বাজেটে প্রতি একশ টাকায়। বাংলাদেশ সরকারের মুল ধন পাঁচ টাকা। ভ্যাট ট্যাক্স পনেরো টাকা। বিদেশী ঋণ ষাট টাকা। দান আনুদান বিশ টাকা। একরকম কম ভিক্ষুকের মতই চলছে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অতিতের সরকার গুলো। এখানে যেমন রয়েছে দক্ষ পরিকল্পনার অভাব তেমনি রয়েছে সরকারের বিভিন্ন খাতে অসাধু কর্মকর্তা।
এভাবেই বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে আমাদের দেশের সরকার গুলো চলে আসছে নিলজ্জের মত প্রায়। চলতে চলতে লোকসানী হয়ে, আদমজী জুট মিল থেকে শুরু করে শত শত মিল কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখানে বিগত সময়ের সবগুলো সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার প্রমাণ রেখে গেছে সর্বক্ষেত্রে । দুর্নীতির কথা এখানে নাই বা বললাম।
কথা থাকে যে, বিগত সরকার গুলো যখনই লোকসানে পরেছে। তখনই দেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। আর ধীরে ধীরে দীর্ঘ চুয়ান্ন বছরের ইতিহাসে আজকে দেশের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ জনগণ বেকার হয়ে সমাজের পরিবেশ নষ্ট করে চলেছে। বেকারত্বের কষ্টে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিও প্রতারণার মত দোষনীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বোকার মত মাঝে মাঝে পুলিশ নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে । যা বিগত সরকার গুলো আহম্মকের পরিচয় দিয়ে গেছে সবসময় । ফল তো জিরো আর জিরো।
রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এসে জনগণের কথা, তারা আর কোন দলই মাথায় রাখেনি। বেকারত্ব না কমালে মন্ধ কাজ কখনও বন্ধ করা সম্ভব নয়। এরকম চিন্তা কখনও কোনো রাজনৈতিক দল পূর্বে করেনি।
এদিকে একটি রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় আসে। তখন তাদের সাড়ে তিনশ এমপি লাগে। কয়েক ডজন মন্ত্রী লাগে। প্রতিমন্ত্রী লাগে। এখানে এতো বড় একটি প্যানেলের, প্রতি মাসে যা বেতন ভাতা লাগে। তার সবই জনগণের উপরে চাপিয়ে দেয়া হয় ভ্যাট ট্যাক্স এর উপরে । জনগণের না দিয়েও কোনো উপায় নেই। একটি গরিব ও নিম্ন আয়ের জনগণের উপরে বারবার সব সরকারের আমলেই বিভিন্ন বাজেটে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি । এছাড়া গোপনে ব্যবসায়ীদের সাথে হাত মিলিয়ে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করণ। তার প্রধান কারণ হলো। সরকারের নিজস্ব কোনো আয় রোজগার না থাকা। যার ফলে জনগণ দেশের কোনো সরকারকে পছন্দ করে না দীর্ঘদিন। কিছু চোর বাটপার ছাড়া।
সরকারের রেলওয়ের মাঝে লোকসান থাকে । সরকারের বিমানের মাঝে লোকসান থাকে। এদিকে সকল এমপি- মন্ত্রীরা দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়ে পরে। তাই হঠাত করে বাজারে গিয়ে দেখবেন । এগারোশ টাকা রিম, বসুন্ধরা কাগজের মূল্য আঠারোশ টাকা হয়ে গেছে। সত্তর টাকা কেজির সোয়াবিন তেল, একশ বিশ টাকা কেজি হয়ে গেছে। তিনশ পঞ্চাশ টাকার সিমেন্টের ব্যাগ পাঁচশ পঁচিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মানে সরকার মোটা অংকের টাকা দাবি করে কোম্পানির কাছ থেকে নিয়ে গেছে। এখন কোম্পানি জনগণের উপরে এর দায় ছাপিয়ে দিচ্ছে।
প্রিয় পাঠক, একবার চিন্তা করুন। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থেকে জনগণের মাথায় কাঁঠাল রেখে, কিভাবে তারা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছে সারাজীবন। এছাড়া বাৎসরিক জাতীয় বাজেটে সারাজীবন প্রায় তিন হাজার পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে কাগজে কলমে। এই সকল পণ্য জনগণ কিনে চড়া দামে। আর রাজনৈতিক সরকার সেই জনগণের টাকায় সারাজীবন চলে আসছে।
এর পরেও জনগণের জন্য তারা কিছু করে না। বন্যা হলে খরা হলে। সেখানে জনগণের পক্ষে আর এই সরকারকে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ সরকারের এমন কোনো ব্যাংক নেই যে, আপনি বিপদে পরলে। ওখান থেকে পাঁচ হাজার টাকা লোন আনতে পারবেন। না। তা পারবেন না।
এদিকে বিদেশী টাকা ঋণ করে রাস্তা- ঘাট, সড়কের কাজ করা হয়। সেই টাকাও জনগণের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে উসুল করা হয়। তারপরও জনগণের জন্য যেটুকু করার কথা তাও তারা করে না। যেমন ঘুষ ছাড়া সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না। আবার ঘুষ ছাড়া সরকারি অফিস- আদালতে কোনো রকম কোনো সেবা পাওয়া যায় না। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় কেন আসবে? বিগত সময়ের সকল সরকার শুধু জনগণকে শোষণই করে গেছে। সামনে যারা আসবে তারাও তাই করবে। যেহেতু সরকারের নিজস্ব কোনো আয় রোজগার নেই।
ততদিন পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক সরকার জনগণকে শোষণ করবে। যতদিন পর্যন্ত সরকারের নিজস্ব আয় রোজগার না হবে। অথচ সরকারের যে নিজস্ব আয় রোজগার লাগে। বিশেষ করে ১৯৯১ সন থেকে ২০২৪ যেসকল সরকার গুলো ক্ষমতায় ছিল, তারা কেউ এই বিষয়টি জানতই না। জানলে তারা মিল কারখানা বন্ধ করতেন না। আরো নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতেন। সদ্য বিদায়ী বতর্মান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিদেশী বিনিয়োগকারী আনার চেষ্টা করছে। এখানে হয়তো সামান্য কিছু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এর মানে এখানে সরকারের নিজস্ব আয় আছে তা কিন্তু নয়। তবে প্রস্তাব দিয়েছি বর্তমান সরকারের কাছে। আমাকে যদি প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা বা ছায়া পরামর্শক অথবা মানবসম্পদ উন্নয়ন পরামর্শক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এক বছরের ভিতরে সরকারের নিজস্ব আয় প্রতি মাসে একশ কোটি টাকার বেশি আসবে। যা বিদেশী কোনো বিনিয়োগ কারী ছাড়া। এছাড়া শিক্ষাখাত স্বাস্থ্য সেবা উন্নত হবে। ঢাকাসহ দেশের যানজট সমস্যার সমাধান হবে। তবেই রাজনৈতিক সরকারের জন্য ভালো হবে। যখন তখন পণ্যের দাম বাড়াতে হবে না। পরিশেষে বাংলাদেশেরও বিদেশের সর্বস্তরের জনগণকে জানিয়ে আজকের লেখাটি এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন।
২ মার্চ ২০২৬
(পর্ব তিন )
শিক্ষার বেহাল দশা,মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি, সময় বহিয়া যায়, সকাল সন্ধ্যায়, কথায় কথায়।
অথই নূরুল আমিন
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং অগাধ বিশ্বাস রেখেই, আজকের লেখাটি শুরু করতে যাচ্ছি। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখন আপনার বেশকিছু কার্যক্রম আমার কাছে ভালো লেগেছিল, যেমন নকল প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সাগরের ইলিশ সুরক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিবর্তন লক্ষণীয়। এখানে তখনকার সময়ের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা ও খুব জোরেই করতে হবে।
তারপরও কথা থেকেই যায়। আর তা হলো তখনকার সময়ে আপনারা শিক্ষা নিয়ে যাই করেছেন। কিন্তু কোনো দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেননি। বা দুর্নীতি বন্ধ করার মত কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি। আজকে যদি প্রশ্ন করি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আপনারা সেদিন যখন যাই করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, তা হলো গর্তের ভিতরে ইঁদুর রেখে উপরে ঢাকনা দিয়েছিলেন মাত্র ।
আমরা জানি শিক্ষাখাতে, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যারা চাকরি করে সচিব থেকে পিয়ন পর্যন্ত, প্রায় ৯৯% কর্মকর্তা- কর্মচারী,তারা সবাই অসৎ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপ – সচিব, জেলা- উপজেলা, শিক্ষা অফিসার বা শিক্ষা পরিদর্শক সবাই যদি অসৎ থাকে। তাহলে ছেলে / মেয়েরা সু শিক্ষিত হবে কি করে? মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন?
অন্য দিকে প্রাথমিক পর্যায়ে যখনই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তখনই চলে আসে ঘুষের বিষয়। তাও সেই ঘুষের পরিমাণ আপনাদের সেই আমলে, লাখ দুই লাখেই হয়ে যেত সম্ভবত। এখন সেটা তিন থেকে পাঁচ লাখ পর্যন্ত আছে। আর অধিদপ্তর, জেলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের বেলায় সাগর চুরি বলাই যায়। দশ লাখ পর্যন্ত শোনা যায়। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য গাইড বই বিক্রি করে, বাংলা বাজারের কিছু অসাধু প্রকাশক। সেখানে চলে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান গুলো বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যপুস্তক পাওয়ার পরেও কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির বই উচ্চ দামে বিক্রি করছে ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছে। এ যেন দিবা চুরি চলছে দেশে। শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি আর অযোগ্যতার কারণে। তাই বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তারা অযোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষকেরা তাদের নিজেদের সংসারজীবন নিয়ে চিন্তা করেছে। বেতন ভাতা বাড়ানোর জন্য উল্টা সরকারের বিপক্ষে আন্দোলন গড়ে তুলছে। আর সমগ্র জাতি সুশিক্ষা থেকে ঝরে পরেছে দিন দিন। দেশের জনগণ হয়ে উঠেনি দেশপ্রেমিক হয়ে। এভাবে একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী।
আজকে আপনি একজন মন্ত্রী হিসেবে কয়েকটি নীতি পরিবর্তন করবেন হয়তো। বেশ কিছু পদ্ধতি পরিবর্তন করবেন হয়তো, তাতেই কি শিক্ষার মান ভালো হয়ে যাবে বলে আপনি মনে করবেন? না তা কখনও হবে না। আপনি হাজার টন ময়লার উপরে বসে থেকে দুই চার কেজি ময়লা সরিয়ে দিয়ে বলবেন। এখানে আর ময়লা নেই বা সব ময়লা সরিয়ে দিয়েছি বলবেন।তারপর আপনার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এখানে অন্য আরেকজন মন্ত্রী আসবেন। তারপর তিনি আরেকটু পন্ডিতি দেখাবেন। এই আইন, সেই আইন,. এই সেই রদবদল করে, একদিন তিনিও চলে যাবেন। এভাবেই সারাজীবন সীতার গীত সবাই জানবে শুনবে। তারপর অন্যজনকে জিজ্ঞেস করবে ” সীতা কার বাপ? ” এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়। মনে করুন এই লেখাটি চিঠি আকারে করে যদি আপনার নামে সচিবালয়ে প্রেরণ করি আপনার কোনো সহকর্মী যদি এই চিঠিটা খুলে পড়ে তারপর আপনার কাছে আর ঐ চিঠিটা দিবে না। তারও দুটি কারণ থাকতে পারে। একটা হলো সে ভাববে এই চিঠির বিষয় গুলো যদি বাস্তবায়ন হয়। তাহলে আমাদের সকলের ভাত মরবে। অন্যটা হলো সে ভাবতে পারে এটা স্যারকে দিলে স্যার রেগে যেতে পারেন।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের কাছে নিম্নে দেয়া আমার প্রস্তাব গুলো বাস্তবায়ন করুন। না পারলে শিক্ষার অবস্থা কামারের লোহা পিটানোর মতই হবে, যেই সেই যেই সেই।
১. ওয়ান থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত, সকল শিক্ষার্থীদের ( সরকারি বেসরকারি এমপিওভূক্ত, কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ স্কুল, মাদ্রাসাসহ ) অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করুন। ( পর্যায়ক্রমে মাষ্টার্স পর্যন্ত অবৈতনিক করার পরিকল্পনাও করবেন ) কারণ বিশেষ করে বাংলাদেশে ধনী পরিবারের সংখ্যা ১৫% মধ্যবিক্ত পরিবারের সংখ্যা ৩০% গরিব পরিবারের সংখ্যা ৪৫% ভাসমান বা নিঃশ্ব পরিবারের সংখ্যা ১০% অথচ শিক্ষাখাতে দুর্নীতি করতে করতে ঐ শিক্ষা খরচ মধ্যবিক্ত পরিবারের নাগালের বাহিরে আছে। গরিব পরিবার আর ভাসমানেরা তো বেসরকারি স্কুল কলেজ চিন্তাই করতে পারে না।
২. নবীন শিক্ষক নিয়োগ দিন, প্রয়োজনে কলেজ পড়ুয়াদের সুযোগ দিন, চাকরির মেয়াদ বিশ বছর করুন।
৩. এমপিওভূক্ত এরকম বাটপারী সম্পূর্ণ পদ্ধতি বাতিল করুন।
৪. পঞ্চাশ উর্ধ্ব বয়স্ক সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে পেনশন দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত করুন।
৫. শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক সোসাইটি,শিক্ষক কর্মচারী দাবী পরিষদ বাতিল করে নতুন গেজেট প্রকাশ করুন।
৬. বাংলাদেশের সকল শিক্ষাব্যবস্থা থাকবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। সকল প্রকার শিক্ষা পদ্ধতির শিক্ষকগণ পাবেন সরকারি বেতন।
৭. প্লে, নার্সারি, কেজি পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাতিল করুন।
৮. কিন্ডাগার্টেন, ইংলিশ মেডিয়াম মাদ্রাসাসহ সকল প্রকার শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের থাকবে সরকারি চাকরি,সরকারি বেতন- পেনশন ভাতা, পারলে সেই ব্যবস্থা করুন। তাও তারা বা তাদের প্রজন্ম বলতে পারবেন। একদিন উনি সরকারি চাকরি করতেন।
৯. সকল শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ থাকবে বিশ বছর। বিশ বছর চাকরি জীবনে সরাসরি প্রমোশন হবে না। সকল প্রকার পদের জন্য আলাদা আলাদা নিয়োগ হবে, যার যার যোগ্যতা হিসেবে তারা আবেদন করবেন।পারলে তাই করুন।
১০. মাসে একদিন করে বন্টন কৃত এলাকায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ তারা ক্লাস নিবেন। মাঝে মাঝে যার যার বাহিনী থেকে ট্রেনিং শেখাবেন। ১০. সরকারি ডাক্তারগণ তাদের রুটিন অনুযায়ী স্বাস্থ্য সচেতন ক্লাস নিবেন।
কাজের কাজ করুন। ছয় মাস পরে যেন লিখতে না হয়। ডা. দীপু মনির মত করে, অযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী।শুধুমাত্র সবশেষে তরকারিতে লবন দেয়ার কাজটি করেই বলতে যাবেন না। হামচে বড়ো কৌন হ্যায়।
২৫. ফেব্রুয়ারি ২০২ ৬
(পর্ব চার )
প্রসঙ্গ : দেশের টেলিভিশন মিডিয়া, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতা। দেশের তরে তাদের ভূমিকা কি?
অথই নূরুল আমিন
দেশজুড়ে আজকে সংবাদপত্রের ছড়াছড়ি। ঢাকাসহ জেলা উপজেলা পর্যন্ত আজকে দৈনিক সাপ্তাহিক পাক্ষিক মাসিক এছাড়া ২৪ ডটকম ( অনলাইন ) তো আছেই। দেশের এত সংবাদ প্রকাশনায় জাতির কি কোনরকম কল্যাণে আসছে?
সংবাদপত্র টেলিভিশন রেডিও সহ সকল প্রচার মাধ্যম সবার আগে এবং সর্বপ্রথম একটি দুঃসংবাদ দিয়ে শুরু করা হয়। সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হয় একটি অসুন্দর খবর দিয়ে। এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। দুর্নীতির সকল খবর তুলে ধরা হয়।
অনেক সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের শ্লোগান হলো “যেখানে দুর্নীতি সেখানে আমরা ” এই সমাজের দুর্নীতি প্রকাশ করার পর দেশের দুর্নীতি কি কমেছে, মোটেই না। এই দেশে সকল সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে।
তাহলে দেশের টেলিভিশন দেশের সংবাদপত্র যদি মনে করে। আমরা সবার আগে সেই খবর প্রচার করব। যেটা সমাজের জন্য ভালো। এবং তাদের জীবনী প্রচার করব যারা জনসেবা করে আসছে। যেসকল সংগঠন সমাজসেবা করছে। একটি ভালো নিউজ দেশের নব্বই ভাগ মিডিয়া টাকা ছাড়া ছাপতে চায় না।
অথচ দুর্নীতির খবর ছাপতে গিয়ে দুর্নীতিবাজদের সাথে সাংবাদিকরা ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে যায়। দেশের কোন জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে। সারাদিনব্যাপী কিছু সাংবাদিক হন্যে হয়ে খোঁজে বেড়ায়। একটি মন্দ সংবাদ দেশে মিনিটের মধ্যে ভাইরাল করে দেয়া হয়। অথচ কোনো দুখী মানুষের খবরটা অনেক সময় টাকা ছাড়া পত্রিকায় ছাপতে চায় না।
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করে দেখেছি। মিডিয়া গুলো সমাজের সবচেয়ে মন্দ খবরগুলো ভাইরাল করছে। যা থেকে সমাজ আরো মন্দের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ” ছাত্র বিয়ে করেছে শিক্ষিকাকে ” “চাচী পলায়ন করেছে ভাতিজার সাথে ” মামী পলায়ন করেছে ভাগ্নের সাথে ” “দাদী বিয়ে করেছে নাতিকে ” মেয়ের স্বামীর সাথে শাশুড়ির পলায়ন ” এরকম অসংখ্য অসামাজিক ঘটনা প্রতিনিয়ত ছাপছে পত্রিকা গুলো। তখন সাংবাদিক সম্পাদক আর কারো কাছেই টাকা চাচ্ছে না। এ যেন কিছু মিডিয়ার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।
অথচ সেইসব মিডিয়ার সাংবাদিকদের কে যদি বলেন। গরিবের মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না। একটা সাহায্যর আবেদন ছেপে দিন, বা অর্থসংকটে এই গরিব লোকটার চিকিৎসা হচ্ছে না। একটি নিউজ করে দিন। তখন দেখবেন এই সাংবাদিকের কত বাহানা চলে। পত্রিকায় বা মিডিয়ায় সবধরনের খবর ছাপা হবে বা প্রকাশ হবে। এটা ঠিক আছে। কিন্তু ভালো নিউজ গুলো, সমাজের পজেটিভ নিউজ গুলো,বড়ো বা প্রধান শিরোনাম হোক। সমাজে এতো ভালো কাজের আছে যে যদি সবগুলো খবর ছাপা হয়। তাহলে মন্দ খবর ছাপা বা পাঠ করার সময়ই পাবে না সাংবাদিকেরা।