সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

স্বপ্ন, শব্দ আর সুরের অভিযাত্রী: তরুণ কবি ও গীতিকার এম এ রহমান

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

প্রতিবেদন: জয় প্রভাত

বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের আকাশে প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিভার নাম। তাঁদের মধ্যেই একজন সম্ভাবনাময় তরুণ কবি, গীতিকার ও গল্পকার এম এ রহমান। অল্প বয়সেই সাহিত্য ও সংগীতচর্চার মাধ্যমে তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। কবিতার শব্দে অনুভূতির গভীরতা এবং গানের কথায় জীবনের গল্প তুলে ধরার অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে সমসাময়িক তরুণ সৃষ্টিশীলদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এম এ রহমান। তাঁর পিতা মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং মাতা মোছাঃ মেহেনুর বেগম। জন্ম ঠাকুরগাঁওয়ে হলেও শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে দিনাজপুরে। উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি, মানুষের সরল জীবন, গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং সমাজের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যচিন্তা ও সৃষ্টিশীল মানস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংগীতকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, আর সাহিত্য মানুষকে মানবিক করে তোলে। তাই তিনি শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এম এ রহমানের সাহিত্যযাত্রার সূচনা হয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায়। কৈশোরের সেই কাঁচা অনুভূতিগুলোই একসময় রূপ নিতে শুরু করে কবিতা, গান ও গল্পে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর লেখার বিষয়বস্তু যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি পরিণত হয়েছে তাঁর ভাষা ও চিন্তার গভীরতা। প্রেম, বিরহ, অপেক্ষা, আত্মসংগ্রাম, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক বৈষম্য, প্রতিবাদ, স্বপ্ন এবং জীবনের নানা বাস্তবতা তাঁর লেখায় বারবার ফিরে আসে।

এই দীর্ঘ সাহিত্যপথে তাঁর পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। বাবা-মায়ের উৎসাহ ও ভালোবাসা তাঁকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ তাঁর প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এম এ রহমান মনে করেন, একজন স্রষ্টার সাফল্যের পেছনে পরিবারের বিশ্বাস এবং শিক্ষকের অনুপ্রেরণা অমূল্য সম্পদ।

অল্প বয়সেই তিনি তিন শতাধিক কবিতা, সাড়ে তিন শতাধিক গান এবং একাধিক ছোটগল্প রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় কেবল আবেগ নয়, রয়েছে সমাজসচেতনতা, মানবিকতা এবং জীবনবোধের গভীর প্রকাশ। ভাষার সৌন্দর্য, শব্দের শৈল্পিক ব্যবহার এবং হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি তাঁর সাহিত্যকর্মকে পাঠকের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।

গীতিকার হিসেবেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তাঁর মতে, একটি গান শুধু সুরের জন্য নয়, কথার গভীরতার জন্যও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। তাই তাঁর প্রতিটি গানে থাকে অনুভূতির আন্তরিকতা, জীবনের বাস্তবতা এবং মানুষের অন্তর্গত আবেগের স্পর্শ। প্রেম, বিচ্ছেদ, আশা, হতাশা এবং সংগ্রামের গল্প তাঁর গানের প্রধান অনুষঙ্গ।

ডিজিটাল যুগের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এম এ রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তাঁর গান ও সাহিত্যকর্ম নিয়মিত প্রকাশ করছেন। তাঁর পরিবেশিত ও রচিত গান ইতোমধ্যেই অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে আরও বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

সাহিত্য ও সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। এসব অর্জন তাঁর সৃষ্টিশীল যাত্রাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে এবং নতুন উদ্যমে কাজ করে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।

এম এ রহমান বিশ্বাস করেন, জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু একটি ভালো সৃষ্টি যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। তাই তিনি সাময়িক আলোচনার চেয়ে গুণগত ও অর্থবহ সাহিত্য ও সংগীত সৃষ্টিকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ভবিষ্যতে তিনি এমন সাহিত্য ও সংগীত রচনা করতে চান, যা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠক-শ্রোতার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাঁর কাছে সাহিত্য কেবল শব্দের বিন্যাস নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, সমাজের বিবেক এবং সময়ের দলিল।

জয় প্রভাত বিশ্বাস করে, এম এ রহমানের মতো প্রতিভাবান তরুণদের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য ও সংগীত আরও সমৃদ্ধ হবে। নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং স্বপ্নকে সঙ্গী করে তিনি যেভাবে এগিয়ে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে আগামী দিনের বাংলা সাহিত্য ও সংগীতাঙ্গনে একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠবে।

 প্রতিবেদন: জয় প্রভাত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *