প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৩, ২০২৬, ৯:৩৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৪:১১ এ.এম
সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া এক বহুমাত্রিক জীবনের গল্প: -তাসলিমা আক্তার (রত্না)
বিশেষ প্রতিবেদন:
কিছু মানুষ জন্মান চারপাশের অন্ধকার দূর করে আলোর মশাল জ্বালাতে। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি আর মানবতার এক অপূর্ব একাত্মতার নাম তাসলিমা আক্তার (রত্না)। যিনি পেশাগতভাবে শিক্ষক হলেও, ব্যক্তিগত জীবনে একজন সমাজকর্মী, সফল আবৃত্তিশিল্পী এবং উদীয়মান কবি। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পা রাখা এই গুণী মানুষটি আজও ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের নানা স্তরে।
শৈশব ও শিক্ষার ভিত্তিভূমি
১৯৮২ সালের ১লা এপ্রিল নরসিংদী জেলার বেলাব থানার অন্তর্গত নারায়ণপুর ইউনিয়নের হোসেন নগর গ্রামে জন্ম নেওয়া তাসলিমা আক্তারের মেধার বিকাশ ঘটেছিল শৈশবেই। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করা এই মানুষটি বর্তমানে ঢাকার বিখ্যাত ‘সহজপাঠ’ স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোর সুবাস ছড়ানোই তাঁর প্রতিদিনের আনন্দ।
মানবতার সেবায় উৎসর্গীকৃত প্রাণ
তাসলিমা আক্তারের আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তাঁর মানবিক কাজের মাঝে। নিজের সুস্থতাকে স্রষ্টার নেয়ামত মনে করে তিনি এ পর্যন্ত ১২ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন—যা মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে অনন্য অবদান রাখছে। এখানেই শেষ নয়, সমাজের অবহেলিত পথশিশু এবং একাকীত্বে ভোগা বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সমাজসেবা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।
আবৃত্তির সাধনা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাসলিমা আক্তার এক পরিচিত নাম। সাড়ে তিন বছর বয়সে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ এক পরিপক্ব রূপ নিয়েছে। শুদ্ধ উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি আবৃত্তির ওপর দেশের ৪ থেকে ৫টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্র থেকেই শীর্ষ গ্রেড নিয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে কবিতার পঙ্ক্তিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
কলমের জাদুতে নতুন অধ্যায়: কবি ও সাংবাদিক
যদিও তাঁর লেখালেখির বয়স খুব বেশিদিনের নয়—২৭শে ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কলম ধরেছেন—তথাপি অত্যন্ত অল্প সময়েই তিনি সাহিত্যাঙ্গনে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তাঁর লেখা কবিতা স্থান পেয়েছে দেশের ১৫টি যৌথ কাব্যগ্রন্থে। এছাড়া, পাঠকদের মন জয় করে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ১টি একক কাব্যগ্রন্থ।
একই সাথে, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে তাঁর বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ‘দৈনিক জয় প্রভাত’ পত্রিকার পাতায়।
শেষ কথা
তাসলিমা আক্তার (রত্না) প্রমাণ করেছেন যে, সদিচ্ছা থাকলে একই সাথে পেশা, মানবসেবা এবং শিল্পচর্চাকে পরম মমতায় সামলানো সম্ভব। রক্তদান, পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা কবিতার ছন্দে জীবনকে খোঁজা—তাঁর প্রতিটি কাজই সমাজকে সুন্দর করার একেকটি প্রয়াস। সংস্কৃতির এই বহুমাত্রিক সারথির আগামী দিনের পথচলা আরও গৌরবময় হোক, ‘দৈনিক জয় প্রভাত’ পরিবারের পক্ষ থেকে এই শুভকামনা।
প্রতিবেদক: সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ডেস্ক, দৈনিক জয় প্রভাত।*
joyprovat.com