প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৩, ২০২৬, ৮:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২০, ২০২৬, ৩:০৫ এ.এম
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ট্রফি নিল স্পেন।

বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এখন স্পেনের মাথায়। গতকাল রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি দর্শককে রোমাঞ্চের চরম সীমায় নিয়ে যাওয়া এক ঐতিহাসিক ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর সেখানেই স্প্যানিশ জাদুতে স্বপ্নভঙ্গ হয় আলবিসেলেস্তেদের।
২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
মাঝমাঠের দখল ও মার্তিনেসের ‘বাজপাখি’ রূপ
রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকেই স্পেনের চেনা ‘টিকি-টাকা’ ফুটবল আর আর্জেন্টিনার কাউন্টার অ্যাটাকিং কৌশলে ম্যাচ জমে ওঠে। প্রথমার্ধে স্পেনের তরুণ তুর্কিরা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে বরাবরের মতোই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রথমার্ধে স্পেনের দুটি নিশ্চিত গোল অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন এই বাজপাখি। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ০-০ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ও এনসোর লাল কার্ডের বড় ধাক্কা
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়ার জন্য দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে গ্যালারির দর্শকদের হৃদস্পন্দন যেন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
তবে আসল নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল ইনজুরি টাইমে। স্পেনের খেলোয়াড়কে ফাউল করায় আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণভোমরা এনসো ফের্নান্দেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এই একটি ঘটনাই আর্জেন্টিনার চাকা ঘুরিয়ে দেয় এবং স্পেনের জন্য জয়ের পথ সহজ করে তোলে।
তোরেসের সেই জাদুকরী গোল ও স্পেনের উল্লাস
১০ জনের আর্জেন্টিনাকে পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে অল-আউট আক্রমণে যায় স্পেন। অবশেষে ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। স্পেনের দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ থেকে বল পান বদলি হিসেবে নামা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে নিখুঁত এবং ঠান্ডা মাথার এক শটে বল জালে জড়ান তিনি। পুরো স্টেডিয়ামের লাল-হলুদ অংশ তখন উল্লাসের সুনামি বয়ে যায়।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে স্পেনের জমাট রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় স্পেনের বিশ্বজয়।
মেসির অশ্রু ও স্পেনের ঐতিহাসিক ডাবল
ম্যাচ শেষে মাঠের দুই প্রান্তে দেখা গেল ফুটবলের চিরন্তন দুই রূপ। ৩৯ বছর বয়সে নিজের শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি ধরে রাখার খুব কাছে গিয়েও হারার বেদনায় মাঠেই কেঁদে ফেলেন লিওনেল মেসি। তাঁর সেই অশ্রুসিক্ত চোখ বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে দেয়।
অন্যদিকে, পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে যখন স্পেনের অধিনায়কের হাতে সোনালী ট্রফিটি তুলে দেওয়া হয়, তখন আতশবাজির আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে নিউ জার্সির আকাশ। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন পুরুষ ও নারী ফুটবল—দুই বিভাগেই একই সাথে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন থাকার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল।
দৈনিক জয়প্রভাত-এর পক্ষ থেকে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও স্যালুট!
joyprovat.com