প্রিয়তম,
কত নিশি গত হলো—দেখি না তোমার চাঁদবদন।
বহুদিন তুমিও দেখো না আমায় নয়নপাতে।
তবু তোমাকে অনুভব করি—
তোমার উপস্থিতি টের পাই হৃদয়ের গহীনে;
নীরবে, নিবিড় যতনে ভালোবেসে যাই তোমায় অবিরাম।
তুমি যেন মিশে আছো আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
রক্তের শিরায় শিরায় অনুভব করি তোমারই স্পন্দন।
জানো প্রিয়তম—
তোমাকে ভীষণ মনে পড়ে।
মনে পড়ে—কতদিন তোমার প্রিয় খাবার রান্না করে খাওয়াতে পারি না।
তোমার প্রিয় ভুনা খিচুড়ি আর ডিম ভাজা,
হয়তো নুডুলস, নয়তো বিরিয়ানি;
গরম ভাতের সাথে কড়কড়ে মাছ ভাজাও পছন্দ করতে খুব।
খাওয়ার পর মুচকি হেসে বলতে— ‘আলহামদুলিল্লাহ!’
খুব মিস্ করি তোমার সেই মিষ্টি মুখের মুচকি হাসি।
আরও কী কী মনে পড়ে জানো তো?
মনে পড়ে—
তোমার শার্টে মিশে থাকতো তোমার শরীরের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ।
ঘ্রাণটা কিন্তু আমার কাছে বেশ লাগতো, জানো তো?
কেমন একটা ‘তুমি তুমি’ ঘ্রাণ!
তুমি পাশে না থাকলে সবসময় তোমার কাপড়ের ঘ্রাণ নিতাম!
মনে হতো তুমি যেন রয়েছো আমার পাশেই।
মনে পড়ে—
তুমি যখন জিন্স প্যান্ট কিনতে,
আমি অভিমানভরা কণ্ঠে বলতাম,
“এত শক্ত কাপড় কিনো কেন? ধুতে কষ্ট হয় না বুঝি!”
আমার কথা শুনে তুমি শুধু হাসতে।
তারপর থেকে আর কোনোদিন জিন্স প্যান্ট কিনোনি তুমি,
আমার কষ্ট হয় বলে নরম কাপড়ের প্যান্ট কিনতে।
তুমি আমায় অনেক ভালোবাসতে—এখনও ভালোবাসো,
তুমি না বললেও আমি বুঝতে পারি তোমায়।
হয়তো তোমার মনেও আমায় ঘিরে
এমন অগণিত স্মৃতিরা নীরবে জেগে থাকে।
মনে পড়ে আমাদের দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটির দিনগুলো।
ভৌগোলিক দূরত্ব যতই হোক বিস্তৃত,
হৃদয়ের অলিন্দে রয়েছি আমরা—দুজন দুজনার।
প্রিয়তম—
আর একটু ধৈর্য ধরো—
এই তো আর ক’টা দিন!
দূরত্বের প্রাচীর ভেঙে,
আমরা মিলিত হবো একাকার হয়ে।
ইয়া রব,
এ বাসনা কবুল করো—
এই আমার প্রার্থনা।